শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
শরীরের অবাঞ্ছিত পদার্থ দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কিডনি। এটি শরীরের সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফেটের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়, যা নানা শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় বেশি। নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজের ঝুঁকিও বেশি। বিশেষ করে ৩০ বছর বয়সের পর ক্রনিক কিডনি ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, বিশেষত যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে। কিডনি সমস্যা থাকলে খাবারে সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
শরীরে পটাশিয়াম বৃদ্ধি পেলে কিডনির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন এমন খাবার খাওয়া জরুরি যা ২০০ মিলিগ্রামের কম পটাশিয়াম শরীরে প্রবাহিত করে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনের অভাব কিডনির সমস্যা তৈরি করে। আপনি কি জানেন সেই প্রোটিন কোনটি?
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে কিডনি কর্মক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে শরীর কম ক্যালসিয়াম শোষণ করে এবং রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যায়। রক্তে ক্যালসিয়াম কমে গেলে প্যারাথাইরয়েড গ্ল্যান্ড অতিরিক্ত প্যারাথাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুবন্ধের পর ভিটামিন ডি-এর অভাব বাড়ে, তাই সে সময়ে খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পুরুষদের ক্ষেত্রেও বয়সের সঙ্গে রক্তে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দেয়।
ভিটামিন ডি একটি স্নেহপদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন, যা ‘সানশাইন ভিটামিন’ নামেও পরিচিত। তৈলাক্ত মাছে প্রচুর ভিটামিন ডি থাকে এবং সূর্যের রশ্মির সংস্পর্শে মানুষের ত্বকেও ভিটামিন ডি তৈরি হয়। সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য এবং ডিমে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
ভিটামিন ডি শরীর এবং মনের স্বাস্থ্য রক্ষায় অপরিহার্য। এটি হাড় এবং পেশি শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি মনের অবস্থা ভালো রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে পেশি দুর্বল হয়, অস্টিওপোরোসিস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের নানা সমস্যা হতে পারে। বেশি ভিটামিন ডি খেলে রক্তনালীতে ক্যালসিয়াম জমা হতে পারে, যা হাইপারক্যালসিমিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে হার্টের সমস্যা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি শরীরের ক্ষতি না করার জন্য কিছু বিশেষজ্ঞ ভিটামিন ক খাওয়ার পরামর্শ দেন। ভিটামিন ডি রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি করে, আর ভিটামিন ক হাড়ে ক্যালসিয়াম সঞ্চয়ের হার বাড়ায়, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ-এর মতে, ০-১ বছর বয়সি শিশুদের জন্য দৈনিক ভিটামিন ডি প্রয়োজন ০.০১ মিলিগ্রাম, ১-১৩ বছর বয়সীদের জন্য ০.০১৫ মিলিগ্রাম, ১৪-১৮ বছর বয়সিদের জন্য ০.০১৫ মিলিগ্রাম, ১৯-৭০ বছর বয়সীদের জন্য ০.০১৫ মিলিগ্রাম এবং ৭১ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ০.০২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ডি প্রয়োজন।
কিডনি সুস্থ রাখতে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন বি১২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদান কিডনি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।